আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি;

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার উপরপাড়া ও লামারপাড়া অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হাসান।

উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। ফলে কৃষকরা অধিক ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন এবং সামগ্রিকভাবে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ, বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা সাইফুদ্দিন বাহাদুর ও নুরুল কাসেম, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া খান মামুন, যুবদল নেতা আমিরুল কবির, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার স্লাইতং ঝর্ণা, উপরপাড়া ও লামারপাড়াসহ প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পে বর্তমানে ২৫৯ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা সহজেই সেচ সুবিধা পাবেন। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, জারুলিয়াছড়ি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে নানা দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন। খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাযথ পরিকল্পনা ও গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।